পুনর্ভবা নদীর জল বেড়ে তপনে ভেঙে পড়ল প্রাথমিক স্কুলের একাংশ - The News Lion

পুনর্ভবা নদীর জল বেড়ে তপনে ভেঙে পড়ল প্রাথমিক স্কুলের একাংশ



দি নিউজ লায়ন ;  পুনর্ভবা নদীর বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় ভেঙে পড়ল তপন ব্লকের রামপাড়া চেঁচড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের তপন পশ্চিম সার্কেলের গনাহার বারুণীতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাংশ। গত কয়েকদিন ধরেই পুনর্ভবা নদীর জল বেড়ে যাওয়ায় গনাহার বারুণীতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শৌচাগার এবং একটি ক্লাসরুমে ফাটল ধরেছিল। অবশেষে গতকাল ওই স্কুল ভবনটি ভেঙে পড়ে যায়। 


তবে স্কুল বন্ধ থাকায় কোনো রকম দুর্ঘটনা ঘটেনি। তা নাহলে ঘটতে পারত বড়সড় দুর্ঘটনা। এদিকে স্কুল খোলার পর পঠন-পাঠনের সমস্যা হতে পারে বলে স্কুলের প্রধান শিক্ষক নরেন্দ্রনাথ রায় জানিয়েছেন। জানা গেছে, গনাহার বারুণীতলা প্রাথমিক স্কুলে মোট পড়ুয়ার সংখ্যা ৫৯ জন। স্কুলে ৩ জন শিক্ষক রয়েছে। করোনা ও লকডাউনের কারণে দীর্ঘ ৭ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে স্কুলে পঠন পাঠন। প্রাথমিক স্কুলটি তপন ব্লকের রামপাড়া চেঁচড়ার মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া পুনর্ভবা নদীর পাশে অবস্থিত। বিগত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির ফলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল তপন ব্লকের একাংশ এলাকায়।


 মূলত পুনর্ভবা নদীর জলেই প্লাবিত হয়েছিল এই এলাকা গনাহারও৷ পুনর্ভবা নদীর জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়ার ফলে রামপাড়া চেঁচড়া বিভিন্ন এলাকায় ভেঙে গেছিল নদী বাঁধ। এর ফলেই বসে  ফাটল ধরেছিল গনাহার বারুণীতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি ভবন ও শৌচালয়ের। অবশেষে গতকাল ফাটল ধরা স্কুল ভবন ও শৌচালয়টি ভেঙে পড়ে যায় পুনর্ভবা নদীতে। এদিকে স্কুল ভবন ভেঙে পড়তে স্কুলের প্রধান শিক্ষক নরেন্দ্রনাথ নাথ রায় পুরো তপন পশ্চিম সার্কেলের এসআইকে জানিয়েছেন বিষয়টি। 


এবিষয়ে গনাহার বারুণীতলা প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক নরেন্দ্রনাথ রায় জানান, এবারে বন্যার ফলে স্কুলের একটি ক্লাসরুম ও শৌচালয় ভেঙে যায়৷ বিষয়টি মৌখিকভাবে সার্কেল ইনস্পেক্টরকে জানিয়েছেন। তবে স্কুল বন্ধ থাকায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ জানাতে পারেননি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যে ভাবে নির্দেশ দেবেন সেভাবেই কাজ করবেন বলে নরেন্দ্রনাথ রায় জানিয়েছেন।


এদিকে স্কুলের সহকারি প্রধান শিক্ষক স্বপন সেন জানান, স্কুলের তিনটি ঘরের মধ্যে একটি পুরোপুরি ভেঙে পড়ে গেছে। তার সঙ্গে শৌচালয় ভেঙে পড়ে গেছে। আপাতত দুটি ঘর ভালো রয়েছে। তবে সেগুলো যেকোনো সময় নদী গ্রাস চলে যেতে পারে। বর্তমানে স্কুল বন্ধ থাকায় তেমন অসুবিধা না হলে পঠন-পাঠন শুরু হলে ক্লাসরুম না থাকায় সমস্যা হতে পারে বলে স্বপনবাবু আশঙ্কা করছেন। 


এবিষয়ে তপনের বিডিও মাসুদ করিম শেখ জানান, বিষয়টি তিনি সমগ্র শিক্ষা সেলে জানাবেন। পাশাপাশি ওই এলাকায় নদী বাঁধের জন্য গঙ্গারামপুর দপ্তরকেও লিখিত আকারে জানাতে চলেছেন।অন্যদিকে এবিষয়ে জেলা প্রাথমিক স্কুল পরিদর্শক নারায়ণ চন্দ্র পাল বলেন, বিষয়টি আমাকে স্কুলের তরফে জানিয়েছে। তবে বিষয়টি পুরোপুরি জানা নেই। নতুন করে স্কুল গড়ার জন্য ফান্ডের প্রয়োজন আছে। তা দেখা হবে। স্কুল খুললে আপাতত পঠনপাঠনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.